সিএসআর এবং স্টার্টআপ

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা বা ‘কর্পোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটি’ (সিএসআর) এর আওতায় পরিচালিত কর্মকাণ্ড দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণাটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপের দিকে এগুচ্ছে। সরকার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং বেসরকারী সংস্থাসমূহের উন্নয়ন কার্যক্রমের মাঝে সমন্বয় সাধনের এখনই উপযুক্ত সময়।

এছাড়া ছড়ানো-ছিটানোভাবে কাজ করার চেয়ে একটি তহবিল গঠন করে তা ব্যবহার করা গেলে তা আরো বেশি ফলপ্রসূ হবে।
অন্যদিকে, বিশ্বের আনাচে-কানাচে প্রতি বছর অজস্র স্টার্টআপ যাত্রা করে। প্রথাগত ব্যবসার চেয়ে স্টার্টআপের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় সাফল্যের মুখ দেখে হাতে গোনা কয়েকটি। তবে সফল যারা, তাদের তরতর করে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

বাংলাদেশে প্রযুক্তিখাতের নতুন ব্যবসা উদ্যোগ বা স্টার্টআপের সম্ভাবনা বিপুল৷ অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ সাফল্যের মুখ দেখছে৷ বিদেশিরাও এ খাতে অর্থলগ্নি করছে৷ আবার অনেকগুলোই মুখ থুবড়ে পড়ছে৷কিন্তু নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করে অনেকেই সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কেননা এখানে অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও ধীরে ধীরে লাভ হতেই থাকে।

এছাড়া সিএসআর তহবিলের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বলা আছে যে,দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের সন্তান কিংবা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি, দুর্যোগকবলিত জনগোষ্ঠী, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কিংবা সুনির্দিষ্ট সম্প্রদায়, উপজাতি, পশ্চাত্পদ জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ও নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং কল্যাণের জন্য গঠিত তহবিলে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা যাবে। সবুজ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত সংক্রান্ত উদ্যোগ, টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা, জৈববৈচিত্র্যগত ভারসাম্য বজায় রাখা, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সুরক্ষা, কৃষিভিত্তিক বনায়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং মাটি, পানি ও বায়ুর গুণগত মান নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত কার্যক্রমেও সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা যাবে।

তাছাড়া হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবাসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা; যেমন— কিডনি ডায়ালাইসিস কিংবা হার্টের সার্জারি-সংক্রান্ত সরঞ্জামাদি সরবরাহ-সংক্রান্ত সরকারের যেকোনো তহবিলেও সিএসআরের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনোভাবেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দল কিংবা কর্মসূচিতে সিএসআরের অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া কোম্পানির উদ্যোক্তা, শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

আবার,ব্যবসায় ‘ফার্স্ট মুভার অ্যাডভানটেজ’ বলে যেমন কথা আছে, তেমনি ‘লাস্ট মুভার’ নিয়েও থিওরি আছে। অধিকাংশ স্টার্টআপ ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতা থেকে জন্ম নেয় নতুন কোনো গল্পের। তাই ব্যর্থতার ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে নিজের বলার মতো কোনো গল্প আপনি তৈরি করতে পারবেন না। প্রতিদিন শিখতে থাকুন। অর্থ জোগাড় হওয়ার পর শতভাগ নিবেদন নিয়ে কাজ করতে থাকুন। টিম গঠনে মনোযোগী হন। নিজে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন। দ্রুত শুরু করে ধীরে এগোতে থাকুন। বাজার জরিপ করুন। নিজের পণ্যের মান উন্নত করুন। বিক্রয়, বিপণন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অপারেশন–এ চারটি ধাপ শক্তিশালী করুন। স্টার্টআপ ওয়েবভিত্তিক বা অ্যাপভিত্তিক হলে ভালো সফটওয়্যার ফার্মকে দিয়ে কাজ করান। সব সময় মাথায় রাখুন, সফলতা কোনো লটারির টিকিট নয়। ব্যর্থতা জয় করে ঘামের বিনিময়ে এটি পেতে হয়।

লিখেছেন : মাকসুদা হাসান তনিমা

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।